দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় চাঁদাবাজি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার চার নম্বর আসামি করা হয়েছে স্টার নিউজের সাংবাদিক মিরাজ শিকদারকে। তবে তার দাবি, ঘটনার সময় তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ভিডিও ধারণ করছিলেন। পূর্বে সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষোভ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী, পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বিদ্যালয়ে আসেন প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার। বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করেন। পরে অন্য কয়েকজন তাকে আবার অটোরিকশায় তুলে দেন। আহত অবস্থায় তিনি প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখান থেকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।
ঘটনার পর সোমবার দুপুরে সুজিত কর্মকার বাদী হয়ে ডামুড্যার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আটজনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন (৫০), আশিক বেপারী (৩৫), সাহিন মাদবর (৫২), মিরাজ শিকদার (৪৫), মিঠু শিকদার (২৫), শাহ-আলম (৪২), ইপ্তি সরদার (৩০) ও আলিফ শিকদার (২৮)।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সুজিত কর্মকারকে মারধরের সময় কিছু দূরে দাঁড়িয়ে অন্যদের সঙ্গে সাংবাদিক মিরাজ শিকদার ভিডিও ধারণ করছিলেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মামলায় আসামি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মিরাজ শিকদার বলেন, ‘সুজিত কর্মকার সাবেক সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ ও শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ নিয়ে আমি সংবাদ প্রকাশ করেছিলাম। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি আমাকে মামলায় জড়িয়েছেন। আমি আশা করি, তদন্তে সত্য প্রকাশ পাবে।’
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে মামলায় আসামি করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারাও।
শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন বলেন, ‘দায়িত্ব পালনরত কোনো সাংবাদিককে ব্যক্তিগত রেষারেষি বা অন্য কারণে মামলায় জড়ানো স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য উদ্বেগজনক। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা হোক।’
তবে মামলার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বলেন, ‘মিরাজ শিকদারই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক যোগসাজশ করে তাদের লোকজন দিয়ে আমার ওপর হামলা চালিয়েছেন। পরে তিনি ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন।’
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখনও আদালত থেকে মামলার কাগজপত্র হাতে পাইনি। পেলে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো যাবে।’
এমএস/